দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো যানজট। অফিস টাইম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি কিংবা উৎসবের সময় নগরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ঢাকার সড়কে যান চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে।
বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ অংশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” চালু হয়েছে। বাকি অংশেও ঈদের পর এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক সিগন্যাল নির্দিষ্ট সময় ও যানবাহনের চাপ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং যান চলাচলের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- শতচেষ্টায় হয়নি, এআই ক্যামেরায় ফিরছে 100% ট্রাফিক শৃঙ্খলা!
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শহর পরিচালনায় “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। বিশ্বের বড় বড় শহরে বহু আগেই স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালু হয়েছে। বাংলাদেশেও এখন সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় সিগন্যালগুলো একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সময় পরিবর্তন করতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয় যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়।
ঢাকার ব্যস্ত মোড়গুলোতে এতদিন অনেক সময় সিগন্যাল কাজ না করা কিংবা ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। চালকেরা নিয়ম না মানলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেত। তবে “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” চালুর পর ধীরে ধীরে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সিগন্যাল পরিচালনাকে আরও কার্যকর করছে।
এখন শুধু সিগন্যাল বসালেই হবে না, বরং পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গণপরিবহন, রিকশা চলাচল, ফুটপাত দখল এবং অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণেও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ শুধু “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” চালু করলেই যানজট পুরোপুরি কমবে না। এর সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজধানীতে ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বড় ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহন যেন রাজধানীর মূল সড়কে প্রবেশ না করে, সেজন্য কিছু বিকল্প রুট উন্নয়নের কাজ চলছে। এতে শহরের অভ্যন্তরীণ যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, জ্বালানি অপচয়ও কমবে। বর্তমানে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নষ্ট হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে এসব সমস্যাও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেক চালক মনে করছেন, সিগন্যাল সঠিকভাবে কাজ করলে অযথা যানজট এবং মোড়ে বিশৃঙ্খলা কমবে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকার কারণে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। নতুন এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু যন্ত্রপাতি বসালেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অনেক সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সিস্টেম অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই একটি দক্ষ মনিটরিং টিম এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে AI-ভিত্তিক ট্রাফিক সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকাতেও “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” আরও উন্নত হয়ে AI প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তখন যানবাহনের সংখ্যা, ট্রাফিক চাপ এবং সময় বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগর ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পশুর হাট, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ এবং সড়ক পরিষ্কার রাখার বিষয়েও সিটি করপোরেশন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে ঈদের সময় নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা কমতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজধানীতে “স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল” চালু হওয়া ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলার শহরে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে নগরবাসী আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক যাতায়াত সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আরও পড়ুন- ঢাকায় নতুন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ | কম খরচে যাতায়াতের সহজ উপায়
নিয়মিত কন্টেন্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফললো করতে পারেন- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখার মাঝে যদি কোনো ভাষাগত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে থাকে, অনুগ্রহ করে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো করতে সহায়তা করবে।

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি penciloo.com-এ নিয়মিত প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট লিখি। মোবাইল, গ্যাজেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন খবর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সঠিক তথ্য ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করি।