গর্ভপাত নিয়ে ৯০% মানুষ যে ভুলগুলো বিশ্বাস করে: মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ

গর্ভপাত বর্তমান সময়ে মা-দের জন্য খুব ভয়ঙ্কর ও অস্বস্থিকর একটি টার্ম। যেসব মা গর্ভপাতজনিত সমস্যার মধ্যে দিয়ে একবার অন্তত যান একমাত্র তারাই বুঝতে পারেন এটা যে কত মারাত্মক অভিজ্ঞতা। অনেক মা-রাই মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে খুব বেশি প্রকৃত কারণ জানেন না।

গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ (Miscarriage) নিয়ে সমাজে যেসব বিধিনিষেধ প্রচলিত আছে আদতে বৈজ্ঞানিকভাবে এইগুলার কোনো ভিত্তি নাই এবং এই ব্যাপারে মোটামুটি সব ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞগণ একমত । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামে কিছু কথা প্রচলিত আছে এবং নির্দিষ্ট অভ্যাস বা ঘটনার উপর দেয় চাপানো হয়। যেটা ঠিক নয়।

প্রচলিত ভুল ধারণার মধ্যে রয়েছে (মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ)

১। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হতাশা বা আকস্মিক আতঙ্কের কারণে গর্ভপাত হয়;

২। গর্ভাবস্থায় অপেক্ষাকৃত ভারী কাজ বা ব্যায়াম করলে ঝুঁকি বাড়ে;

৩। গর্ভাবস্থায় অনেক সময়ে ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে গর্ভপাত ঘটে;

৪। গর্ভাবস্থায় সহবাস করলে;

৫। গর্ভাবস্থায় ঝাল খাবার খেলে গর্ভপাত হয়;

উপরোক্ত এসব ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। এইগুলা প্রচলিত ধারণা মানুষের মুখে মুখে বছরের পর বছর ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভপাতের বা মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জটিল শারীরিক ও জিনগত বিষয়, যা সাধারণ জীবনযাত্রার বা জীবনাচরণের কারণে ঘটে না। তাই গর্ভাবস্থায় সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ এটার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রশ্ন-উত্তর

মিসক্যারেজ কি?
মিসক্যারেজ হলো গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের আগেই ভ্রূণের স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া। এটি অনেক সময় অজান্তেই ঘটে এবং প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় বেশি দেখা যায়।

মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ কি?
সাধারণত ভ্রূণের জেনেটিক সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, সংক্রমণ বা মায়ের শারীরিক জটিলতার কারণে মিসক্যারেজ হতে পারে। এছাড়া জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়ায়।

বার বার মিসক্যারেজ হওয়ার কারণ কি?
বারবার মিসক্যারেজের পেছনে হরমোনজনিত সমস্যা, জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি, জেনেটিক কারণ বা অটোইমিউন রোগ দায়ী হতে পারে। সঠিক কারণ জানতে ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।

মিসক্যারেজের লক্ষণ কি কি?
পেটের নিচে ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, কোমর ব্যথা এবং টিস্যু বের হওয়া মিসক্যারেজের সাধারণ লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

মিসক্যারেজ হলে করণীয় কি?
মিসক্যারেজের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বিশ্রাম নেওয়া এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করা জরুরি।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Comment