বর্তমানে দেশের ব্যবসা ও কর ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ এবং ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে না। ফলে ব্যবসায়িক লেনদেন আরও সহজে নজরদারির আওতায় আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম চালালেও ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ব্যবস্থার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই নীতির মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় যাচাই আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব, কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং ভ্যাট তথ্য একসঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” হওয়ায় ভবিষ্যতে ভুয়া বা অনিবন্ধিত ব্যবসা শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন- ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা: ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি
ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এখনো ভ্যাট নিবন্ধন নিতে অনাগ্রহী। অনেকেই মনে করেন, ভ্যাট ব্যবস্থায় জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এনবিআর বলছে, পুরো সিস্টেম অনলাইনে নিয়ে আসার মাধ্যমে এই জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলছে। “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” করার পেছনেও মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসাকে ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনা।
বর্তমানে দেশে লাখ লাখ ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় না। এতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ব্যবসায়িক তথ্য ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর ফাঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বাধ্যবাধকতা তৈরি করলেই হবে না, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এখনো ডিজিটাল ভ্যাট সিস্টেম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। তাই “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” নীতি বাস্তবায়নের আগে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বর্তমানে অনলাইনে ই-বিআইএন নিবন্ধনের মাধ্যমে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, লেনদেন ও কর সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
নতুন ভ্যাট আইনে নির্দিষ্ট সীমার নিচে বার্ষিক লেনদেন হলে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় না। তবে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হয় এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করতে হয়। “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” হলে এসব নিয়ম আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সরকার সহজেই ব্যবসায়িক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং কর ফাঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার কারণে ব্যবসার আর্থিক তথ্য আরও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব, ট্যাক্স তথ্য ও ভ্যাট নিবন্ধন এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ায় প্রতারণা বা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি কমবে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট ব্যবসাগুলোও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে “প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক” করার ফলে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনো অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন বা ডিজিটাল রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না। ফলে তাদের জন্য শুরুতে অতিরিক্ত ঝামেলা ও খরচ বাড়তে পারে। নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার ঝুঁকিও থাকবে। এছাড়া প্রযুক্তিগত জটিলতা, ইন্টারনেট সমস্যা বা প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে ছোট উদ্যোক্তারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজ ডিজিটাল সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন এই নিয়ম কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন- নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা: ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে
নিয়মিত কন্টেন্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফললো করতে পারেন- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখার মাঝে যদি কোনো ভাষাগত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে থাকে, অনুগ্রহ করে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো করতে সহায়তা করবে।

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি penciloo.com-এ নিয়মিত প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট লিখি। মোবাইল, গ্যাজেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন খবর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সঠিক তথ্য ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করি।