বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত উদ্যোগ হলো অ্যাকটিভ শেয়ারিং। সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগে এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই অবকাঠামো একাধিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারলে শুধু খরচই কমবে না, বরং গ্রাহকরা আরও উন্নত মানের ও প্রতিযোগিতামূলক ব্রডব্যান্ড সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অ্যাকটিভ শেয়ারিং কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অ্যাকটিভ শেয়ারিং এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একই ফাইবার অপটিক অবকাঠামো ব্যবহার করে একাধিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (ISP) নিজস্ব প্যাকেজ ও গ্রাহকসেবা পরিচালনা করতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় প্রতিটি আইএসপি আলাদাভাবে কেবল, সুইচ, ডিস্ট্রিবিউশন বক্স এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করে। ফলে একই এলাকায় একাধিকবার অবকাঠামো নির্মাণ করতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়।
নতুন এই ব্যবস্থায় অবকাঠামো হবে যৌথ, কিন্তু সেবা ও মূল্য নির্ধারণে প্রতিযোগিতা থাকবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে গ্রাহকসেবা ও নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্যাকেজ ও নতুন দাম 2026
গ্রাহকদের জন্য কী কী সুবিধা আসতে পারে?
অ্যাকটিভ শেয়ারিং চালু হলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন সাধারণ ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীরা। বর্তমানে অনেক এলাকায় একটি বা দুটি আইএসপির বাইরে বিকল্প থাকে না। আবার অপারেটর পরিবর্তন করতে গেলেও নতুন করে কেবল টানা বা সংযোগ স্থাপনের ঝামেলায় পড়তে হয়।
নতুন ব্যবস্থায় একই অবকাঠামো ব্যবহার করেই সহজে সেবাদাতা পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। এতে গ্রাহকরা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো গতি, উন্নত সাপোর্ট বা সাশ্রয়ী প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিযোগিতা বাড়লে সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যও আরও যুক্তিসঙ্গত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে ছোট ও মাঝারি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো নতুন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের উচ্চ ব্যয়। একই এলাকায় নতুন গ্রাহক সংযোগ দিতে গেলেও অনেক সময় নতুন ফাইবার অপটিক কেবল বসাতে হয়, যা ব্যবসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
অ্যাকটিভ শেয়ারিং চালু হলে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে কম বিনিয়োগে নতুন এলাকায় সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোরও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত নেটওয়ার্ক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শহরের তারের জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ঝুলন্ত ফাইবার অপটিক তার দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। একই রাস্তায় বা ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে কেবল স্থাপন করায় নগর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে একই অবকাঠামো ব্যবহার করার কারণে নতুন করে বারবার কেবল বসানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এতে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের খুঁটির ওপর চাপ কমানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করার মতো একাধিক সুবিধা মিলতে পারে। পাশাপাশি সড়ক খোঁড়াখুঁড়িও তুলনামূলকভাবে কম হবে।
পরীক্ষামূলক অভিজ্ঞতা থেকে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীর একটি এলাকায় সীমিত পরিসরে যৌথ অবকাঠামো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হওয়ায় এখন সেটিকে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গাইডলাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সেখানকার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য শহরেও অ্যাকটিভ শেয়ারিং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু সেই সক্ষমতার পুরোটা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ভবিষ্যতের উচ্চগতির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই যৌথ অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে সফলভাবে ব্রডব্যান্ড সেবা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবার মান আরও উন্নত হবে।
অ্যাকটিভ শেয়ারিং শুধু একটি নতুন নীতিমালা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড খাতকে আরও আধুনিক, সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একই অবকাঠামো ব্যবহার করে একাধিক আইএসপি সেবা দিতে পারলে গ্রাহকরা যেমন উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোরও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশের ব্রডব্যান্ড সেবার চিত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন- ওয়াই-ফাই ৮ রাউটার নিয়ে TP-Link-এর চমক | New Update
👉নিয়মিত কন্টেন্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফললো করতে পারেন- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখার মাঝে যদি কোনো ভাষাগত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে থাকে, অনুগ্রহ করে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো করতে সহায়তা করবে।
স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি penciloo.com-এ নিয়মিত প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট লিখি। মোবাইল, গ্যাজেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন খবর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সঠিক তথ্য ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করি।