বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শর্ত ফিরছে। ঠিক-ই শুনছেন, বাদ দেয়ার পর এখন বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত “ইসরাইল ব্যতীত” শর্ত। দীর্ঘদিন পর এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ই-পাসপোর্টের ডিজাইন, জলছাপ এবং প্রতীকী ছবিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একসময় বাংলাদেশের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকত— “এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরাইল ছাড়া।” পরে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় সেই বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়। তখন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দেশে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অবস্থানকে দুর্বল করা হয়েছে। এখন আবার বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শর্ত ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে সেই বিতর্ক নতুনভাবে সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের আবেগ, পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থন ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নতুন ই-পাসপোর্টে আবারও “Except Israel” শব্দবন্ধ যুক্ত হতে যাচ্ছে।
শুধু ভাষাগত পরিবর্তন নয়, ই-পাসপোর্টের ভেতরের প্রতীকী উপস্থাপনাতেও বড় রদবদল আসছে। বর্তমানে পাসপোর্টের পাতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন সংস্করণে কিছু পুরোনো ছবি বাদ দিয়ে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ডিজাইনে জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, জামদানি শাড়ি, টাঙ্গুয়ার হাওর, আহসান মঞ্জিল, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, শালবন বিহার, পানাম নগরী এবং রাজশাহীর আমবাগানের মতো প্রতীকী স্থান ও উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও ভালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে কিছু পরিচিত অবকাঠামোগত প্রকল্প ও প্রতীকী ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নতুন নকশায় আগের কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি আর থাকছে না। তবে জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে শহীদ মিনার, সুন্দরবন, লালবাগ কেল্লা, জাতীয় পাখি দোয়েল এবং বেঙ্গল টাইগারের মতো বিষয়গুলো আগের মতোই রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শর্ত পুনর্বহাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে দেশের ঐতিহাসিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি মূলত প্রতীকী পরিবর্তন, যার বাস্তব কূটনৈতিক প্রভাব সীমিত।
এদিকে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও কিছু পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে। নতুন ই-পাসপোর্টে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, আধুনিক জলছাপ এবং আরও শক্তিশালী ডিজিটাল সুরক্ষা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই নতুন ডিজাইন তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নতুন পাসপোর্ট ধাপে ধাপে চালু করা হবে। যাদের বর্তমানে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শর্ত পুনর্বহাল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, জনগণের আবেগ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি প্রতীকী প্রকাশ। একই সঙ্গে নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে আসন্ন এই “বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শর্ত” পরিবর্তন শুধু নকশাগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বার্তা ও পরিচয়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবেও কাজ করবে।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র
আরও পড়ুন- রোমানিয়ায় ফ্রি কোর্সের সুযোগ ২০২৬: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন শুরু
নিয়মিত কন্টেন্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফললো করতে পারেন- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখার মাঝে যদি কোনো ভাষাগত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে থাকে, অনুগ্রহ করে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো করতে সহায়তা করবে।

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি penciloo.com-এ নিয়মিত প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট লিখি। মোবাইল, গ্যাজেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন খবর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সঠিক তথ্য ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করি।